Blog

জ্বীন পার্ট – ১

অনেক বড় লেখা তাই ধৈর্য নিয়ে পড়বেন, স্কিপ করে গেলে পরে আর বুঝতে পারবেন না। আর খুব দ্রুত লিখছি তাই বানান ভূল হতে পারে যার কারনে আমি লজ্জিত।
জ্বীন নামটা শুনলে অনেকেই মনে করেন ভূত টাইপের কিছু। আসলে ভূত বলে কিছুই নাই, সবই জ্বীন জাতি। আমরা শয়তান নামে যাকে চিনি সেও জ্বীণ জাতির অন্তর্ভুক্ত।
আজকাল অনেকেই জ্বিনের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে। তারা মনে করে দুনিয়াতে জ্বিন বলে কিছু নেই। আসলে এটা ভ্রান্ত ধারণা। জ্বিন আছে এবং জ্বিনের অস্তিত্বও বিজ্ঞান সম্মত। আমরা এখানে সেটা নিয়েই আলোচনা করব।
প্রথমে আমরা জানব জ্বিন সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে কি বলা হয়েছেঃ
সুরা আল জ্বিনে বলা হয়েছেঃ
বলুন, আমার প্রতি ওহী নাযিল করা হয়েছে যে, জ্বিনদের একটি দল কোরআন শ্রবণ করেছে, অতঃপর তারা বলেছেঃ আমরা বিস্ময়কর কোরআন শ্রবণ করেছি। (আয়াত-০১)
অথচ আমরা মনে করতাম মানুষ ও জ্বিন কখনও আল্লাহতা’আলা সম্পর্কে মিথ্যা বলতে পারে না। (আয়াত-০৫)
আর যখন আল্লাহতা’আলার বান্দা তাকে ডাকার জন্যে দন্ডায়মান হল, তখন অনেক জ্বিন তার কাছে ভিড় জমালো। (আয়াত-১৯)

জ্বিন জাতির ইতিহাসঃ

কুরআন অনুসারে জিন জাতি মানুষের ন্যয় আল্লাহ্‌ তা’য়ালার এক সৃষ্ট একটি জাতি। পৃথিবীতে মানব আগমনের পূর্ব থেকেই তাদের অস্তিত্ব ছিল; এখনও তাদের অস্তিত্ব রয়েছে। মানুষের চর্মচক্ষে তারা দৃষ্টিগ্রাহ্য নয়। তবে জিনরা মানুষকে দেখতে পায়। তারা বিশেষ কিছু শক্তির অধিকারী। তাদের মধ্যেও মুসলিম এবং কাফির ভেদ রয়েছে। তারা মসজিদে নামাজ পড়তে আসে। তাদেরও সমাজ রয়েছে। তারা আয়ূ মানুষের চেয়ে অনেক বেশী। উদাহরনস্বরূপ, তারা ৩০০ বছর বয়সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়। ঈমাম ইবনে তাইমিয়ার মতে জিন জাতি তাদের অবয়ব পরিবর্তন করতে পারে।
ইসলামের মতে জিন জাতি এক বিশেষ সৃষ্টি। কুরআনের ৭২তম সুরা আল জ্বিন এ শুধু জিনদের নিয়ে কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সূরা আন নাস এর শেষ অংশে জিন জাতির উল্লেখ আছে। কুরআনে আরো বলা আছে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে জিন এবং মানবজাতির নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। হযরত সুলায়মান (আঃ) এর সেনাদলে জিনদের অংশগ্রহণ ছিল বলে কুরআনে উল্লেখ আছে। ইসলামে আরো বলা আছে “ইবলিশ” তথা শয়তান প্রকৃতপক্ষে জিন জাতির একজন ছিল। ইসলামের মতে, শয়তান হচ্ছে দুষ্ট জিনদের নেতা। ইবলিশ বা শয়তান ছিল প্রথম জিন যে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করেছিল।
কুরআনে উল্লেখ আছে যে, ইবলিশ এক সময় আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা ছিল । কিন্তু আল্লাহ যখন হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন, তখন হিংসার বশবর্তী হয়ে ইবলিশ আল্লাহর হুকুম অমান্য করে। এ কারণে ইবলিশ কে বেহেশত থেকে বিতাড়িত করা হয় এবং এরপর থেকে তার নামকরণ হয় শয়তান। ইসলাম পূর্ব আরব উপকথা গুলোতে জ্বিন সদৃশ সত্ত্বার উল্লেখ আছে। প্রাচীন সেমাইট জাতির জনগণ জিন নামক সত্ত্বায় বিশ্বাস করতো। তাদের মতানুসারে নানাপ্রকারের জিন পরিলক্ষিত হয়। যেমন, ঘুল (দুষ্ট প্রকৃতির জিন যারা মূলত কবরস্থানের সাথে সম্পর্কিত এবং এরা যেকোন আকৃতি ধারণ করতে পারে), সিলা (যারা আকৃতি পরিবর্তন করতে পারতো) এবং ইফরিত (এরা খারাপ আত্মা)। এছাড়া মারিদ নামক এক প্রকার জিন আছে যারা জিন দের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। প্রাচীন আরবদের মতে জিন রা আগুনের তৈরি।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ব্যাখাঃ

আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞান জ্বিন জাতির অস্তিত্ব অস্বিকার করে না। অস্বিকার করার মত কোন যুক্তি বা মতবাদও আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং এ্যন্টি ম্যাটার সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান যত বৃদ্ধি পাচ্ছে জ্বিনের অস্তিত্বের পক্ষে যুক্তি ততই প্রগাড় হচ্ছে।
আসুন জানি এ্যন্টি ম্যাটার কিঃ
পৃথিবীতে যেমন বস্তু রয়েছে। তেমনভাবে অবস্তুও থাকতে পারে। আসুন দেখি এন্টিম্যাটার সম্পর্কে উইকিতে কি বলা হয়েছেঃ
পার্টিক্যাল ফিজিক্সে এ্যন্টি ম্যাটারেরর ধারণা প্রতিপদার্থের ধারণা রুপ নিয়েছে। ধারণা করা হয়েছে যেভাবে কণা দ্বারা পদার্থ গঠিত হয় ঠিক তেমনিভাবে প্রতিকণা দ্বারা প্রতিপদার্থ গঠিত হয়। উদাহরণস্বরুপ, একটি প্রতিইলেকট্রন (পজিট্রন) এবং একটি প্রতিপ্রোটন মিলিত হয়ে গঠন করে একটি প্রতিহাইড্রোজেন পরমাণু, যেমন করে একটি ইলকট্রন ও প্রোটন মিলে তৈরি করে একটি হাইড্রোজেন পরমাণু। উপরন্তু কণা এবং প্রতিকণা মিলিত হলে যেভাবে পূর্ণবিলয়ের মাধ্যমে সকল শক্তি বিমুক্ত হয়, তেমনি পদার্থ এবং প্রতিপদার্থের মিলনে পূর্ণবিলয়ের সৃষ্টি হয় বলে ধারণা করা হয়েছে। এ ধরণের পূর্ণবিলয়ের ফলে প্রকৃতপক্ষে উচ্চ শক্তির ফোটন (গামা রশ্মি) এবং বহু কণা-প্রতিকণা জোড়ার সৃষ্টি হয়। এই পূর্ণবিলয়ে বিমুক্ত কণাগুলোর মধ্যে বিপুল পরিমাণ শক্তি থাকে। এই শক্তির মান পূর্ণবিলয়ের ফলে সৃষ্ট বস্তুসমূহের নিশ্চল ভর এবং মূল পদার্থ-প্রতিপদার্থ জোড়ার অন্তর্ভুক্ত বস্তুসমূহের নিশ্চল ভরের পার্থক্যের সমান।
অর্থাৎ আমাদের মহাবিশ্বে যত পার্টিক্যাল আছে ঠিক তত পরিমান এ্যন্টি পার্টিক্যাল আছে। শক্তির নিত্যতা সূত্রানুযায়ী।
এ্যান্টিপার্টিকেল অদৃশ্য। এগুলোর মুভমেন্ট কোন যন্ত্র দ্বারা পর্যবেক্ষন করা যায় না। কিন্তু বিজ্ঞান এগুলোর অস্তিত্বকে অস্বিকার করতে পারছে না।
পৃথিবীতে ৬৫০ কোটি মানুষ আছে। এ্যান্টি পার্টিকেল থিওরি অনুযায়ী প্রতিটি মানুষের জন্যে একটি করে প্রতিমানুষ থাকলে সেগুলোর সংখ্যা হবে ৬৫০ কোটি। এগুলো মানুষের মতই কিন্তু অদৃশ্য।
এগুলোকেই জ্বিন বলা হয় যা বিজ্ঞান সম্মত।
সোর্সঃ উকিপিডিয়া
খুব কম মানুষই তার চোখে 60 Hz পর্যন্ত দেখতে পারে যা সেকেন্ডে প্রায় ১৫০ টি ফ্রেমের সমান। এর বেশী গতির বস্তু মানুষ দেখতে অপারগ। অপর দিকে মানুষ 390 to 700 nm সীমার মধ্যে আলো দেখতে পায়। তাই আমরা অনায়াসেই বলে দিতে পারি যে জ্বীনের অস্তিত্ব আছে। যারা ঐ ফ্রিকুয়েন্সিতে বা তার বেশী ফ্রিকুয়েন্সিতে চলাফেরা করে।
আমরা যারা প্যারানরমাল এক্টিভিটি নিয়ে পড়ালেখা করেছি তারা কিছু ইকুইপমেন্ট সম্পর্কে জানি। যেমন:
১) EDI RESEARCH DEVICE:

a) Ambient Temperature Sensor ( ±½ degree within 3 seconds ) এটা LED ফ্রিকুয়েন্সি send করে যা ডিগ্রিতে টেম্পারেচার মেজার করে।

b) Electromagnetic Field Sensor ( below 30 Hz to above 30 kHz ) এটা আগেরটার মতই তবে এটা ইলেক্ট্রোমেগনেট মানে ইলেক্ট্রিসিটি মেজার করে।
c) Geophone ( from .024 to .122 G’s ) এটা কোনো কিছুর নড়াচড়া মেজার করে।
 
২) ParaScope: ( Measures 2.5″ wide by 3.5″ ) এটা উচ্চতা জাচাই করে। খুবি কাজের 🙂
৩) REM-POD: ( Mini telescopic antenna provides 360 degree coverage ) এটা দিয়ে পুরো যায়গাটাকে মেজার করে। যদি কোনো কিছুর এক্সিস্টেন্স থাকে এটা সাইরেন দেয়।
৪) GHOST HUNTING PARTY: এটা 4 EMF পর্যন্ত ম্যাগ্নেটিক ফিল্ড জাচাই করে।
এছাড়াও অনেক গেজেট আছে যেমনঃ সাউন্ড ক্যাপচারিং, লেজার লাইট এলার্ট, ফ্রিকুয়েন্সি হান্টিং মিটার আরো অনেক। এসবই জীনদের অস্তিত্ব প্রমান করে।
এ জগতে বিজ্ঞান দিয়ে কোরআনকে ‘দৌড়ানি’ দেওয়া শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় এক যুগ আগে। শুরুর দিকে কোরআনের পৃথিবীকে ‘থালার লাহান চ্যাপ্টা’ ও ‘স্থির’ বানিয়ে দিয়ে বিজ্ঞান দিয়ে ‘দৌড়ানি’ দেওয়া হতো। একটা পর্যায়ে যেয়ে নিজেরাই উষ্ঠা খেয়ে সত্য স্বীকার না করেই চুপ মেরে যায়। জুলকার্নাইনের ঘটনা দিয়েও কোরআনকে কিছুদিন ‘দৌড়ানি’ দেওয়া হয়। এভাবে মিশন্যারী উৎস থেকে চমকে দেওয়ার মতো দু-একটি করে বিষয় নিয়ে এসে বিজ্ঞান দিয়ে কোরআনকে কিছুদিন ‘দৌড়ের’ উপর রেখে এক সময় নিজেরাই উষ্ঠা খেয়ে চুপ মেরে গেছে। তারা হয়তো বুঝে গেছে যে, এখন এসে এই ধরণের (অপ)প্রচার করলে উল্টোদিকে গণদৌড়ানি খেতে হবে!
এজন্য বিজ্ঞান দিয়ে কোরআনকে ‘দৌড়ানি’ দেওয়ার সর্বশেষ (?) অস্ত্র হিসেবে সম্ভবত জ্বীনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। শুধু এটুকু বললে ব্যাপারটা অসমাপ্ত থেকে যাবে। এক বাংলা মহাবিজ্ঞানীর দাবি অনুযায়ী কোনো এক পাকিস্তানী উন্মাদ বিজ্ঞানী (তার ভাষায়; তার কাছে অবশ্য মুসলিম মানেই উন্মাদ, ভণ্ড, ধোঁকাবাজ, মিথ্যাবাদী, ইত্যাদি) নাকি জ্বীন থেকে এনার্জি বা শক্তি কব্জা করার জন্য গবেষণার প্রস্তাব দিয়েছেন। আর যায় কই! মুসলিমদেরকে ধরাশায়ী করার জন্য আর কী লাগে! পাকিস্তানী বিজ্ঞানী যেহেতু জ্বীন থেকে এনার্জি কব্জা করার জন্য গবেষণার কথা বলেছেন সেহেতু জ্বীনের অনস্তিত্ব বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ হয়ে গেছে এবং যার ফলে মুসলিমরা এখন বিজ্ঞানের ভয়ে গর্তে লুকাবে!
জ্বীন থেকে এনার্জি কব্জা করার সূত্র দেওয়া হচ্ছে এই লেখার: Why Does the Muslim World Lag in Science? লেখকের নাম অ্যারন সেগাল (Aaron Segal)। এই লেখাতে অ্যারন সেগাল কোরআন ও বাইবেল সম্পর্কে লিখেছেঃ-
“One verse (6:1) reads, “He created the heavens and the earth in six days, and then mounted his throne.” Were this verse, borrowed from Genesis I, interpreted literally, it would devastate astrophysics, cosmology, geology, and other disciplines. But Muslims have neither interpreted the verse (as have most Christians and Jews) to understand that a “day” means some length of time to God other than twenty-four earth hours, nor have they given it a metaphorical meaning.”
অ্যারন সেগাল এখানে দুটি মিথ্যাচার করেছে। প্রথমত, তার দাবি অনুযায়ী বাইবেলের জেনেসিস থেকে কোরআনের উপরোক্ত আয়াত ধার করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, তার দাবি অনুযায়ী মুসলিমরা কোরআনে ‘দিন’ বলতে আক্ষরিক অর্থে পৃথিবীর সময়ে ‘চব্বিশ ঘণ্টা’ বোঝে! হা-হা-হা! বোকারাম পুরাই উল্টো দাবি করেছে!
একই লেখাতে অ্যারন সেগাল পাকিস্তানে জ্বীন নিয়ে গবেষণা সম্পর্কে বলেছেঃ-
“The regime organized international conferences and provided funding for research on such topics as the temperature of hell and the chemical nature of jinns (demons).১৪”
প্রথমত, অ্যারন সেগালের লেখা অনুযায়ী পাকিস্তানে জিয়াউল হক সরকারের সময়ে জাহান্নামের তাপমাত্রা ও জ্বীনের রাসায়নিক প্রকৃতি নিয়ে গবেষণার জন্য ফাণ্ড দেওয়া হয়। সত্য-মিথ্যা আমার জানা নেই। এটিকেই বাংলা মহাবিজ্ঞানী সাহেব – বিজ্ঞান-ভিত্তিক বিষয়ে যার কোনো পেপার আছে কি-না সন্দেহ – জ্বীন ধরে তা থেকে এনার্জি কব্জা করার কথা বলে এবং পাকিস্তানী বিজ্ঞানীকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে মুসলিমদের নিয়ে অনেকদিন ধরে বেশ হাসিঠাট্টা করে আসছে। উল্লেখ্য যে, আমাদের কারো লেখায় জ্বীন বিষয়ে পাকিস্তানী কোনো বিজ্ঞানীর রেফারেন্স টানা হয়নি।
দ্বিতীয়ত, অ্যারন সেগালের লেখাতে উল্লেখিত ১৪ নং সূত্র ধরে যেয়ে দেখা যাচ্ছে সেটি আরেক পাকিস্তানী বিজ্ঞানী পারভেজ হুডবয় এর লিখা একটি বই (Islam and Science: Religious Orthodoxy and the Battle for Rationality)। পারভেজ হুডবয় জন্মসূত্রে ইসমাইলী হওয়ার কারণে মূলস্রোতের মুসলিমদের পেছনে লেগে থাকেন। ইসলামেরও সমালোচনা করেন। উল্লেখ্য যে, পারভেজ হুডবয় ইসলাম বিদ্বেষীমনাদের কারো কারো কাছে বেশ প্রিয় পাত্র। অন্যদিকে প্রফেসর আব্দুস সালাম একজন আহমেদিয়া মুসলিম হলেও উনি কিন্তু মূলস্রোতের মুসলিমদের পেছনে লেগে থাকেননি কিংবা পরোক্ষভাবে ইসলামের সমালোচনাও করেননি। প্রফেসর সালাম বরং ইসলামে বিশ্বাসীই ছিলেন। এজন্য প্রফেসর সালামের উপর ইসলাম-বিদ্বেষীমনারা চরম ক্ষিপ্ত।
যাহোক, যদিও ইসলাম ও মুসলিম বিরোধীদের কাছে পাকিস্তান একটি মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে তথাপি জ্বীন নিয়ে পাকিস্তানে কী হচ্ছে আর না হচ্ছে সেটিকে এক পাশে রেখে ব্যাপারটাকে যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যাক।
ইসলাম অনুযায়ী জ্বীনেরা আগুনের (Flame of fire) তৈরি, তবে অদৃশ্য। প্রশ্ন হচ্ছে আগুন থেকে এনার্জি বা শক্তি উৎপন্ন করা সম্ভব কি-না? এই প্রশ্নের জবাব জানার জন্য বিজ্ঞানের জ্ঞান থাকার কোনোই দরকার নাই। কেননা বিষয়টা সর্বজনবিদিত। আগুন থেকে যদি শক্তি উৎপন্ন করা সম্ভব হয় তাহলে আগুনের তৈরি জ্বীন থেকে শক্তি উৎপন্ন করার প্রস্তাব হাস্যকর হয় কী করে? নাকি মনারা ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে কথা বলার সময় নাকে লাফিং গ্যাসের মাস্ক লাগিয়ে নেয়? তবে এখানে শর্ত হচ্ছে জ্বীনের অস্তিত্ব খুঁজে পেতে হবে। জ্বীনের অস্তিত্ব খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত এটি একটি তত্ত্ব বা প্রস্তাব হিসেবেই থেকে যাবে।
যেখানে এলিয়েনের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে যদিও ফলাফল শূন্য, মানুষ হত্যার জন্য মারণাস্ত্র তৈরিতে প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে, এ’রকম কত কিছু নিয়ে যুগের পর যুগ ধরে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে গবেষণা চলছে – সেখানে জ্বীন নিয়ে কেউ গবেষণার প্রস্তাব দিলেই উন্মাদ হয়ে যায়। কেন? কারণ, এটি ইসলামের সাথে সম্পর্কযুক্ত। প্রকৃত উন্মাদ ও অন্ধ বিদ্বেষী যে কারা, তা সচেতন ও যুক্তিবাদী পাঠক মাত্রই বুঝতে পারার কথা।
সোর্সঃ সামহোয়ার ব্লগ
যারা বিজ্ঞান দিয়ে কোরআনকে ‘দৌড়ানি’ দিতে যেয়ে নিজেরাই বারংবার উষ্ঠা খাচ্ছে তাদের কাছে প্রশ্ন: বিজ্ঞানের কোথায় বলা হয়েছে যে, জ্বীন বলে কিছু নাই বা থাকতে পারে না? উষ্ঠা খাওয়া নির্বোধগুলার এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মতো সৎ-সাহস আছে কি?
আজকাল যে ন্যাশনাল জিওগ্রাফী, ডিসকাভারি চ্যানেল (আজকাল মুক্তমনারা এগুলাকে বিজ্ঞানের অথেনটিক সোর্স হিসাবে মনে করে) গুলোতে লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ করে ভূতপ্রেতের বিষয় নিয়ে ডকুমেন্টারি বানানো হচ্ছে এবং হলিউড, বলিউড, ছবিগুলোর কাহিনী বিষয় বস্তু যে ভূতপ্রেত, সেগুলোর কথা কি বাংলার মহা বিজ্ঞানীর মাথার উপর দিয়ে চলে গেছে?
এই মহাবিশ্বের স্রষ্টায় অবিশ্বাস করে [স্রষ্টায় অবিশ্বাসের জন্য সবচেয়ে বড় কল্পকাহিনীতে বিশ্বাসী হতে হবে], বিবর্তনবাদের মতো অবাস্তব ও হাস্যকর রকমের কল্পকাহিনীতে বিশ্বাস করে, জ্বীনে বিশ্বাস নিয়ে হাসিঠাট্টা করতে হলে জ্বীন-পজেসড হতে হবে কিংবা ইসলাম-বিদ্বেষী ভাইরাসে আক্রান্ত হতে হবে।
মনাদের কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে ফেরেশতা ও জ্বীনে বিশ্বাস নিয়ে হাসিঠাট্টা করে আসছে। তাদের মধ্যে কতজন জেনেবুঝে হাসিঠাট্টা করে আর কতজন বহুব্রীহি নাটকের মামার মতো অন্যের হাসি দেখে হাসে, তা অবশ্য বলা মুশকিল।
যাহোক, বিজ্ঞানের উপর আস্থা থাকলে ফেরেশতা ও জ্বীনে বিশ্বাস নিয়ে হাসিঠাট্টা করার কথা না। অধিকন্তু, যাদের বিশ্বাস অনুযায়ী একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে পুরো জীবজগত বিবর্তিত হয়েছে, তাদের কি ফেরেশতা ও জ্বীনে বিশ্বাস নিয়ে হাসিঠাট্টা করার ন্যূনতম কোনো অধিকার আছে? কেউ যদি বিবর্তনবাদের কল্পকাহিনীতে বিশ্বাস করে ফেরেশতা ও জ্বীনে বিশ্বাস নিয়ে হাসিঠাট্টা করে তাহলে সেটা হবে কালের শ্রেষ্ঠ বিনোদনমূলক কৌতুক। ব্যাপারটা “চালুনি হয়ে সুঁচের পেছনে ছিদ্র নিয়ে হাসিঠাট্টা করা” কিংবা “গান্ধীর বিরুদ্ধে হিটলারের গণহত্যার অভিযোগ” এর মতোই হাস্যকর শুনায়।
ইসলাম অনুযায়ী ফেরেশতা হচ্ছে নূর তথা আলোর তৈরী এবং জ্বীন হচ্ছে আগুনের শিখার তৈরী ক্রীয়েচার। তবে উভয়েই অদৃশ্য – খালি চোখে দেখা যায় না। তাহলে আলো ও আগুনের তৈরী অদৃশ্য ক্রীয়েচারে বিশ্বাস নিয়ে নাস্তিকদের হাসিঠাট্টা করার কারণ কী? কারণ মূলত তিনটি:
১. ফেরেশতা ও জ্বীনকে দেখা যায় না! {কোনো কিছুকে দেখা না গেলেই নাস্তিকদের কাছে সেটি ‘কাল্পনিক’ ও ‘হাসিঠাট্টার বস্তু’ হয়ে যায়। নাস্তিকদের এই ধরণের বিজ্ঞান-বিরোধী ও শিশুসুলভ মনোভাবের জবাব অনেকেই অনেকবার দিয়েছেন – আচ্ছামতোই দিয়েছেন। নতুন করে আর বলার কিছু নাই। কোটি কোটি বছর আগের একটি কাল্পনিক ব্যাকটেরিয়া থেকে পুরো জীবজগতের বিবর্তনে বিশ্বাস করে যারা স্বচক্ষে না দেখে কোনো কিছুতে বিশ্বাস নিয়ে হাসিঠাট্টা করে তারা হয় বদ্ধ উন্মাদ না-হয় অতি ধূরন্ধর।}
২. ফেরেশতা ও জ্বীন ধর্মীয় বিশ্বাস! {প্রশ্ন হচ্ছে কোন্‌ পাদ্রী/পুরোহিত/মোল্লা বলেছে যে, ধর্মীয় বিশ্বাস মানেই সেটি এমনি এমনি মিথ্যা বা হাসিঠাট্টার বস্তু হয়ে যায়? বড় বড় বিজ্ঞানীরা এই ধরণের কোনো কথাবার্তা বলেছেন বলে মনে হয় না। সকল প্রকার কল্পকাহিনীর সমাহার বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করে এই ধরণের কথাবার্তা বলতে লজ্জা করা উচিত।}
৩. ফেরেশতা ও জ্বীনের অস্তিত্বের পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নাই! {কোনো কিছুর অস্তিত্বের পক্ষে আজ পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকা মানেই সেটি অবৈজ্ঞানিক বা হাসিঠাট্টার বস্তু হয়ে যায় নাকি? বিজ্ঞানের কোথায় এই কথা লিখা আছে? অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত মানুষের কাছে ব্যাকটেরিয়া-জাতীয় কোনো অণুজীবের অস্তিত্ব ছিল না। তার মানে কি ব্যাকটেরিয়া-জাতীয় অণুজীবের অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি? অতিবেগুনি রশ্মিকে খালি চোখে দেখা যায় না বলে কি তার অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি? অনুরূপভাবে, টেলিস্কোপ আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত খালি চোখে এই মহাবিশ্বটা ছিল খুবই ক্ষুদ্র ও সীমিত – পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে শুরু করে উপরিভাগে খালি চোখে দৃশ্যমান চন্দ্র, সূর্য, ও কিছু গ্রহ-নক্ষত্রের সমন্বয়ে সামিয়ানার মতো কিছু একটা। তার মানে এই মহাবিশ্বটা আগের মতোই ক্ষুদ্র ও সীমিত রয়ে গেছে নাকি? এ’রকম উদাহরণ আরো অনেক দেওয়া যায়।}
অতএব, প্রশ্ন হচ্ছে বিজ্ঞানের উপর নাস্তিকদের আদৌ কোনো আস্থা আছে কি? নাকি তারা ধর্মীয় বিশ্বাসকে হেয় করার জন্য বিজ্ঞানের ঘাড়ে বন্দুক রেখে তড়িঘড়ি-পরিমরি করে বিজ্ঞান-বিরোধী সব উপসংহার টানছে?
সোর্সঃ গুগোল
জীনকে বিজ্ঞানীরা প্রমান করেছে তবে তা এলিয়ান রূপে। আমি এন্সিয়েন্ট এলিয়েন আর আনসিল্ড এলিয়েন ফাইল এ ২টা রিসার্চিং নিয়ে পড়েছি।
আপনারা এলিয়েন এর সাথে জীন জাতির সম্পর্ক খুজে দেখেন সব কিছু ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
আরো ব্যাখ্যা আছে ধীরে ধীরে সব দিবো, একটু অগোছালো তাই মনযোগ দিয়ে পইরেন। সব লেখা শেষে আমি পডিএফ আর নোট আকারে প্রকাশ করবো, আর বই ও বানাতে পাড়ি কারন এ সম্পর্কে বই নাই বললেই চলে।
Advertisements

মিশরীয় মিথলজির কিছু স্বল্প পরিচিত দেব-দেবীঃ পর্ব ২

দেবতা বেস

Bes (কিংবা কখনো কখনো Bisu) ছিলেন প্রাচীন মিশরের ঘর-গেরস্থালীর নিরাপত্তার এবং সন্তান জন্মদানের দেবতা। এই দেবতা আকৃতিতে ছিলেন বামন, বিশাল ভুঁড়িবিশিষ্ট এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাস্যোজ্জ্বল।

প্রাচীন মিশরের Nubian পুরাণে প্রথমে বেসকে সিংহের আকৃতিতে কল্পনা করা হয়েছিলো, যে সিংহটি তার পেছনের দু’পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তখন তিনি ছিলেন যুদ্ধের দেবতা। পরে কালক্রমে সিংহের আকৃতির বদলে মিশরীয়রা তাকে ভাবতে থাকে একজন দানব হিসেবে, যিনি দেখতে দানব হলেও সর্বদা মানুষের মঙ্গল করে বেড়ান। তাকে মানুষ দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজকর্মের সাথে জড়িয়ে ফেলে। এক পর্যায়ে তিনি হয়ে যান ঘর-গেরস্থালী এবং সন্তান জন্মদানের দেবতা।

মিশরীয়রা বিশ্বাস করতো, নিজেদের ঘর ক্ষতিকর সব প্রাণী, বিভিন্ন দুর্ঘটনা এবং অশুভ শক্তির প্রভাব হতে একমাত্র দেবতা বেসই রক্ষা করতে পারেন। এই জন্যে তারা ঘরের দরজায় বেসের মূর্তি বা মুখোশ ঝুলিয়ে রাখতো। শুধু ঘরদোরের নিরাপত্তাই নয়, দৈনন্দিন সাংসারিক জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের পেছনেও বেসের আশীর্বাদের মুখাপেক্ষী ছিলো তারা। ঘরদোরের অনেক আসবাবপত্রেই, বিশেষত খাটের কোণায় এবং আয়নার পাশে বেসের মূর্তি ঝুলিয়ে রাখতো তারা। বেসের নামে সরাসরি কোনো মন্দির কখনোই তৈরি করা হয়নি, কিন্তু ঘরে ঘরে দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন দানবরূপী আর সবার মঙ্গলকারী এই দেবতা।

1

বেসকে সন্তান-সন্ততির রক্ষক হিসেবেও গণ্য করা হতো। যখন কোনো মা সন্তান জন্মদানকালীন জটিলতায় ভুগতেন, তখন তার মাথার নিকট বেসের মূর্তি রাখা হতো। সন্তান জন্মদানের পরে তার মাথার কাছেও বেসের মূর্তি রাখা হতো, যাতে কোনো অশুভ কিছু সেই সদ্যোজাত সন্তানকে স্পর্শ করতে না পারে। অর্থাৎ, অশুভ শক্তি হতেও নবজাতকদের নিরাপত্তা দিতেন বেস। মিশরীয়রা বিশ্বাস করতো, শিশুরা ঘুমের মাঝে নিজে নিজেই হাসে, এর কারণ হলো দেবতা বেস ঐ মুহূর্তে শিশুটার পাশে বসে খেলছেন এবং অদ্ভুত সব মুখভঙ্গি করে তাকে হাসাচ্ছেন।

দেবতা বেসের সঙ্গী হিসেবে পরবর্তী ক্লাসিক্যাল যুগে কল্পনা করা হতো দেবী তাওরাতকে (Tawret)। টলেমির সময়কাল পর্যন্তও দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন এই বেস-তাওরাত দম্পতি। নিজেদের সংসারে সুখ ও সমৃদ্ধি আসবে, এই আশায় দেবদেবী দু’জনের ছবি খোদাই করা কবচ বয়ে বেড়াতো মিশরীয়রা।টলেমি পরবর্তী যুগে বেসের জন্যে সঙ্গী হিসেবে নতুন একজনকে কল্পনা করা শুরু হয়। তার নাম ছিলো ‘বেসেত (Beset)’। এই বেসেত মূলত বেস দেবতারই স্ত্রীরূপ, আলাদা কোনো দেবী নন। এই বেস এবং বেসেত হয়ে উঠেন তখন স্বামী-স্ত্রীর আনন্দময় যৌনমিলনের প্রতীক। এই ধারণাটা মিশরীয়দের ছাপিয়ে রোমানদের মাঝ পর্যন্ত ছড়ায়। তারাও বেস এবং বেসেতের দারুণ ভক্ত হয়ে উঠে। বংশবিস্তারের প্রতীক হিসেবে ভাবতে শুরু করে তাদের।

চিত্রকর্মে ও বিভিন্ন মূর্তিতে বেসকে দেখা যায় বিশাল ভুঁড়িবিশিষ্ট হাস্যোজ্জ্বল এক দাড়িওয়ালা বামন রূপে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রাচীন নুবিয়ান পুরাণে বেস দেবতার উল্লেখ থাকলেও তার আদি উৎস সম্ভবত মিশর নয়, বরং আফ্রিকার অন্য কোনো অঞ্চল। পরে সেখান থেকে বেস এসে ঠাঁই নিয়েছেন মিশরীয় পুরাণে। শেষ পর্যন্ত টলেমি পরবর্তী যুগে তার জনপ্রিয়তা মিশর ছাড়িয়ে পৌঁছেছিলো রোম সাম্রাজ্য পর্যন্ত।

দেবতা হেকা

Heka (কখনো কখনো ডাকা হয় Hike নামে) ছিলেন মিশরীয় পুরাণে ম্যাজিক এবং চিকিৎসার দেবতা। মিশরীয়দের কাছে চিকিৎসাবিদ্যা বলতে গেলে ম্যাজিকের মতোই ছিলো। চিকিৎসাবিদ্যাকে তারা ম্যাজিকের অনেকগুলো শাখার একটা বলে বিবেচনা করতো। এর কারণও খুব একটা দুর্বোধ্য কিছু নয়। “ভূতপ্রেত, অশরীরী এবং অশুভ সব শক্তির প্রভাবে মানুষ রোগে-শোকে ভুগে” – এই ধরণের ধারণায় বিশ্বাসীদের কাছে ঔষধ-পথ্য যা, ঝাড়ফুঁকও তাই। সবই ম্যাজিক! সেই হিসেবেই দু’টোকে একসাথে মিলিয়ে এগুলোর দেবতা হিসেবে প্রাচীন মিশরীয়রা কল্পনা করেছিলো হেকাকে। মিশরীয় ভাষায় “কা” শব্দের অর্থ হলো ‘ইন্দ্রজাল’ বা ম্যাজিক। আর “হেকা” শব্দের মানে হলো “যার মাধ্যমে ম্যাজিক কাজ করে”।

দেবতা আতুম (Atum) বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির সময়ে যে কয়টা শক্তি ব্যবহার করেছিলেন, তার একটা ছিলো কা বা ম্যাজিক। দেবতা আতুম বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির সময়ে অনুভব করেছিলেন, অন্যান্য আরো সব শক্তির সাথে আরেকটা বিশেষ ধরণের শক্তিরও প্রয়োজন পড়বে এই মহাজগত তৈরিতে। তখন তিনি নতুন ধরণের সেই শক্তি, যেটাকে আমরা বলি “ম্যাজিক”, তৈরি করে নিলেন নিজের প্রয়োজনে। আর এভাবেই আতুমের হাতে জন্ম হলো দেবতা হেকার। কোনো কোনো পুরাণে আবার বর্ণিত আছে আতুমের হাতে জন্ম হয়নি হেকার। বরং তার জন্ম হয়েছিলো দেবতা খেনমু (ভেড়ার মাথাবিশিষ্ট, উর্বরতার দেবতা) এবং দেবী মেনহেতের (মতান্তরে সেখমেত, যুদ্ধের দেবী) মিলনের ফলে। খেনমু এবং মেনহেতের বড় সন্তান হচ্ছেন হেকা।

2

মিশরীয় পুরুষদের রীতি ছিলো তারা ছোট বয়সে তাদের মাথার চুল আশেপাশে পুরোটা কামিয়ে ফেলবে। শুধু মাথার মাঝখানে একটু চুল রাখবে, যেটাকে তারা বেণীর মতো করে বেঁধে রাখবে। দেবতাদের আশীর্বাদ পাবার জন্যেই তারা এই কাজটা করতো। পরে তাদের বয়স চৌদ্দ বছর পার হবার সাথে সাথেই তারা চুলের এই স্টাইল পালটে নিজের পছন্দমতো কোনো স্টাইল বেছে নিতো। এটাকে বলা হয় “Sidelock of Youth”. আমাদের আজকের আলোচ্য দেবতা হেকাকে এখন পর্যন্ত সব চিত্রকর্মে এবং বিভিন্ন মূর্তিতে এই রূপেই পাওয়া গেছে। তাতে ধারণা করা হয়, হেকাকে মিশরীয়রা সবসময়ই একজন ছোট বালক হিসেবে দেখে আসতো।

দেবতা হেকার নামে সরাসরি কোনো উপাসনালয় কখনোই ছিলো না। কিন্তু ঘরে ঘরে তার নাম উচ্চারিত হতো। যেসব পুরোহিত হেকার অনুসারী হতে চাইতো, তাদের জন্যে চিকিৎসা শাস্ত্র অধ্যয়ন ছিলো বাধ্যতামূলক। এই কারণে দেখা যেতো হেকার অনুসারী পুরোহিতরা অন্যান্য পুরোহিতদের চেয়ে অতি উচ্চমাত্রায় শিক্ষিত। সাড়ে তিন হাজার বছর পূর্বের কোনো মিশরীয় পুরোহিতের দেবতা হেকার অনুসারী হবার ইচ্ছা প্রকাশ করা আর বর্তমানে কারো এমআইটি-তে গিয়ে পিএইচডি করার ইচ্ছা প্রকাশ করাকে মোটামুটি একই জিনিস হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন সবাই। প্রাচীন মিশরে সব দেবতার উপাসকরাই টুকটাক ম্যাজিক দেখিয়ে জনগণকে বশে রাখতো। এই সমস্ত ম্যাজিশিয়ান পুরোহিতদের মধ্যে হেকার অনুসারী পুরোহিতরা ছিলো অতি সম্মানিত। কারণ তারা লিখতে-পড়তে জানতো। তাদের আবিষ্কৃত সমস্ত চিকিৎসা সংক্রান্ত পথ্য ও ম্যাজিকের ব্যাপারগুলো তারা প্যাপিরাসে লিখে সংরক্ষণ করতে পারতো। ফারাওদের দরবারে হেকার অনুসারীরা সর্বোচ্চ সম্মান পেতো। ফারাওদের বংশের সবার চিকিৎসার জন্যে অতি উচ্চ পর্যায়ের হেকার অনুসারীরা নিয়োজিত ছিলো সবসময়।

হেকার জন্যে সরাসরি কোনো উপাসনালয় না থাকলেও বিভিন্ন চিকিৎসালয়ে তার নামে বিশেষ প্রতীক ঝুলানো হতো (দ্বিতীয় ছবিতে দ্রষ্টব্য)। মিথ অনুযায়ী হেকা একবার ভয়ংকর দুই বিষধর সাপের সাথে লড়ে তাদের পরাজিত করেছিলেন। বিভিন্ন ছবিতে এবং মূর্তিতে দেখা যায়, তিনি সেই সাপ দু’টোকে ক্রস আকারে রাজদণ্ডের মতো করে ধরে আছেন। হেকার প্রতীকে এই ব্যাপারটাই তুলে ধরা হয়। একজোড়া উপরে উঁচিয়ে ধরা হাতের মাঝখানে সেই সাপ দুটোকে প্যাঁচানো অবস্থায় দেখানো হয় হেকার প্রতীকে। এই একজোড়া উঁচানো হাত দিয়ে মিশরীয় শব্দ “কা” বা ম্যাজিককে বুঝানো হয়। সাড়ে তিন হাজার বছর পূর্বে মিশরের সব হাসপাতালে এই প্রতীকটাই ব্যবহৃত হতো রোগের চিকিৎসায় দেবতা হেকার করুণা লাভের আশায়।

3

দেবী সাতেত

Satet (কখনো কখনো Satit বা Satis নামেও ডাকা হয়) ছিলেন মিশরীয় পুরাণে নীল নদের প্লাবনের দেবী। প্রতি বছর দেবী সাতেতই নীল নদে বন্যা আনেন এবং মিশরের জমি উর্বর করেন বলে বিশ্বাস ছিলো। বর্তমান মিশরের আসওয়ান নামক অঞ্চলের মানুষদের লিখিত পুঁথিতে প্রথম এই দেবীর নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। শুরুতে তাকে দেখা হতো যুদ্ধ এবং শিকারের দেবী হিসেবে। তিনি তার হাতের তীর-ধনুক দিয়ে ফারাওদের রক্ষা করতেন এবং যুদ্ধের ময়দানে শত্রুদের বিনাশ করতেন বলে ধারণা ছিলো। পরে এক পর্যায়ে নীল নদে প্লাবন এবং মিশরের কৃষিভূমির উর্বরতার জন্যে তার উপাসনা করতে শুরু করে মিশরীয়রা। ‘Sat’ শব্দের মানে হলো “ছোঁড়া, নিক্ষেপ করা, কারো বা কোনো কিছুর উদ্দেশ্যে জল ছুঁড়ে দেয়া” ইত্যাদি।

শুরুর দিকে তাকে মাথায় হরিণের শিংয়ের মুকুট পরতে দেখা যেতো। হাতে ছিলো তার তীর-ধনুক। পরে কালের আবর্তনে মাথায় হরিণের শিংয়ের সাথে যোগ হয় চোঙাকৃতির মুকুট। তীর-ধনুকের পাশাপাশি তাকে তখন কলসি কাঁখেও দেখা যায় বিভিন্ন চিত্রকর্মে এবং ফারাওদের সমাধিস্থলে স্থাপিত বিভিন্ন মূর্তিতে।

5

সাতেতকে আরেক দেবী ‘আনুকেত (Anuket)’ – এর জননী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আনুকেত ছিলেন স্বয়ং নীল নদের দেবী। এই নীল নদে প্লাবন আনতেন সাতেত। কোনো কোনো পুরাণে আবার সাতেত এবং আনুকেত দুইজনকেই ‘রা’-এর কন্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাতেতের সঙ্গী হিসেবে কল্পনা করা হয় দেবতা ‘খেনমু’-কে, যিনি নিজেও উর্বরতার প্রতীক। এই সাতেত, আনুকেত এবং খেনমু মিলেই মিশরের “আবু (Elephantine)” গোত্রের জন্ম দিয়েছিলেন বলে মিশরীয়রা বিশ্বাস করতো।

দেবী সাতেত মৃত্যুর পরে মানুষের লাশ নীল নদের জলে ধুইয়ে তাদের পাতালপুরীতে প্রবেশ করতে সাহায্য করতেন বলেও বিশ্বাস ছিলো। কিন্তু সাতেতের সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিলো নীল নদের জলে প্লাবন আনার ক্ষেত্রে। পুরাণে বর্ণিত আছে, দেবী আইসিস এবং দেবতা ওসাইরিস (যারা কিনা আবার ভাইবোন) বিয়ের পরে পৃথিবী শাসন করতে বসেন। কিন্তু তাদের আরেক ভাই সেত (Set) হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরেন। হিংসার বশবর্তী হয়ে সেত ওসাইরিসকে হত্যা করেন। হত্যা করে ওসাইরিসের শরীরের টুকরোগুলোকে মিশরের অন্তত ১৪টা স্থানে ছড়িয়ে দেন, যাতে আর সেগুলো খুঁজে না পাওয়া যায়। ব্যবিলনীয় পুরাণে বর্ণিত আছে, আইসিস পরে তার ভাই, প্রেমিক এবং স্বামী ওসাইরিসের শরীরের সবগুলো অংশ খুঁজে পেয়েছিলেন। সেগুলো আবার জোড়া লাগিয়ে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন ওসাইরিসকে। কিন্তু মিশরীয় পুরাণে এই ধরণের কিছু বলা নেই। বরং বলা আছে, দেবী আইসিস শোকে ভীষণ কাতর হয়ে পড়েছিলেন। তার গর্ভে জন্ম নেয় দেবতা ‘হোরাস’, যে পরে তার এই পিতৃহত্যার শোধ নেয়। কিন্তু দেবী আইসিস আর স্বাভাবিক হতে পারেননি কখনো। প্রতিবছর ওসাইরিসের হত্যার দিনে তিনি রাতভর চোখ হতে অশ্রু ঝরাতেন। আমাদের আজকের আলোচ্য দেবী সাতেত সেই অশ্রু নিয়ে সংরক্ষণ করতেন নীল নদে। আইসিসের চোখের জলে প্লাবন আসতো নীল নদে। উর্বর হয়ে উঠতো মিশরের কৃষিভূমি। এই দিনটাকে মিশরীয়রা উৎসবের দিন হিসেবে পালন করে থাকে। ইংরেজিতে দিনটাকে “Night Of the Teardrop” বলে অভিহিত করা হয়।

প্রতি বছর নীল নদের প্লাবনের আগে আগে আকাশের একটা বিশেষ অংশে ‘সেপ্ত (Sept, সিরিয়াস এ, ‘ডগ স্টার’ নামেও পরিচিত)’ নক্ষত্রকে দেখা যায়। সেটাকেই মিশরীয় কৃষকরা দেবী সাতেত-এর আবির্ভাবের লক্ষণ হিসেবে ধরে নেয়। বুঝে নেয় কলসি কাঁখে দেবী সাতেত এসে উপস্থিত হয়েছেন আইসিসের অশ্রু ঝরানোর রাতে সমস্ত জল লুফে নিয়ে পরে সেগুলো নীল নদে ঢেলে দেয়ার জন্যে। তখন ঘরে ঘরে শুরু হয়ে যায় উৎসবের প্রস্তুতি। নতুন ফসল ফলানোর প্রস্তুতি।

লিখেছেনঃ রিজওয়ানুর রহমান প্রিন্স

তথ্য সংগ্রহেঃ

বেস এর তথ্যসূত্রঃ

১। https://en.wikipedia.org/wiki/Bes

২। http://egyptianmythology.org/gods-and-goddesses/bes/

৩। http://www.ancientegyptonline.co.uk/bes.html

হেকার তথ্যসূত্রঃ

১। http://www.landofpyramids.org/heka.htm

২। http://www.ancientegyptonline.co.uk/heka.html

৩। http://www.touregypt.net/godsofegypt/hike.htm

সাতেত এর তথ্যসূত্রঃ

১। http://www.touregypt.net/featurestories/satet.html

২। https://en.wikipedia.org/wiki/Satet

৩। http://www.ancientegyptonline.co.uk/satet.html

মিশরীয় মিথলজির কিছু স্বল্প পরিচিত দেব-দেবীঃ পর্ব ১

দেবী মাফদেত

Mafdet (মতান্তরে Maftet) হচ্ছেন মিশরীয় পুরাণের প্রথম কোনো বিড়াল গোত্রীয় দেবতা। দেবী মাফদেত মূলত ন্যায়বিচার এবং অপরাধ অনুযায়ী উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের দেবী। মিশরীয় পুরাণে দেবী মাফদেত কর্তৃক অপরাধীদের দেয়া এই শাস্তি বেশিরভাগ সময়েই মৃত্যুদণ্ড হতে দেখা যায়। দেবী মাফদেতকে কখনো বিড়ালের চেহারায়, কখনো চিতাবাঘের চেহারায়, কখনো সিংহের কিংবা কখনো কখনো বেজির চেহারায়ও কল্পনা করা হয়। কিন্তু প্রতিটা ক্ষেত্রেই চেহারাটা হয় বিড়াল গোত্রীয় কোনো প্রাণীর, আর বাকি শরীর থাকে মানুষের মতো।

বিছা এবং সাপদের মতো বিষাক্ত প্রাণীদের যেহেতু বেশিরভাগ সময়ে এই সব বিড়াল গোত্রীয় প্রাণীরাই বধ করে থাকে, তাই মিশরীয়রাও দেবী মাফদেতকে কল্পনা করেছিলো এমন বিড়াল গোত্রীয় প্রাণীদের চেহারায়। তাদের বিশ্বাস ছিলো, এই দেবী কঠোর শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে অন্যায়কারীর বিষাক্ত ছোবল থেকে নিরীহদের উদ্ধার করবেন।

1

মিশরীয় পুরাণে উল্লিখিত আছে, পাতাল রাজ্যের বিচার সভায় ফারাওদের সমস্ত শত্রুদের বিচার করা হয় এবং শাস্তি দেয়া হয় দেবী মাফদেত কর্তৃক। ফারাওদের বিরুদ্ধাচরণ করলেই মাফদেত নিজের ধারালো নখর দিয়ে সেই অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন পাতালপুরীর সেই বিচার সভায়।

দেবী মাফদেতের আরেকটা দায়িত্ব ছিলো ফারাওদের সুরক্ষা দেয়া। এজন্যে মিশরীয় ফারাওদের প্রাসাদের বিশেষ কক্ষে দেবী মাফদেতের মূর্তি স্থাপন করা হতো। ফারাওদের সমাধিস্থলেও ফারাওকে বিষাক্ত প্রাণী (সাপ, বিছা) হতে নিরাপদে রাখার জন্যে দেবী মাফদেতের মূর্তি স্থাপন করা হতো। প্রকৃতপক্ষে, মিশরীয় পুরাণের প্রথম যুগে দেবী মাফদেত ছিলেন সাপ এবং বিছার কামড় হতে সুরক্ষা প্রদানের দেবীও। বিষাক্ত প্রাণীর কামড় থেকে বাঁচতেও অনেকে দেবী মাফদেতের শরণাপন্ন হতো। দেবতা ‘রা’-এর রক্ষাকর্তাও ছিলেন দেবী মাফদেত। কারণ, ‘রা’-এর বিষাক্ত প্রাণীদের কামড়ের বিরুদ্ধে দুর্বলতা ছিলো।

দেবী মাফদেতের প্রতীক হলো রাজদণ্ড এবং মৃত্যুদণ্ড প্রদানের ধারালো ছুরি, কাস্তে কিংবা কখনো কখনো হাতের নখর। পরবর্তী যুগের মিশরীয় পুরাণগুলোতে দেবী মাফদেতকে মূলত জল্লাদ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিলো। সেখানে দেখানো হয়েছিলো, দেবী মাফদেত কীভাবে তার ধারালো নখর দিয়ে অপরাধীদের হৃদপিণ্ড বের করে এনে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতেন। পরে সেই হৃদপিণ্ড উপস্থিত করতেন ফারাওয়ের পায়ের নিকট। এসব কারণেই দেবী মাফদেতকে ডাকা হয় ‘রাজার পক্ষে প্রতিশোধ গ্রহণকারী দেবতা (Avenger of the King)’ হিসেবে।

দেবী মেনহেত

2

মিশরীয় পুরাণের সবখানে অবশ্য মেনহেতের নাম পাওয়া যায় না। Nubian মিথলজিতে এই দেবীর নাম উল্লেখ করা আছে। Nubia ছিলো নীল নদ ঘেঁষে গড়ে উঠা এক অঞ্চল (বর্তমান সুদানের উত্তর পাশ এবং মিশরের দক্ষিণ পাশ নিয়ে গঠিত)। এখানেই খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে গড়ে উঠেছিলো উত্তর আফ্রিকার সর্বাধিক প্রাচীন সভ্যতাগুলোর একটা। তাদের লিখিত পুঁথিতেই পাওয়া যায় মেনহেতের নাম।

যুদ্ধের অন্যান্য দেবদেবীর মতো মেনহেতকেও বিভিন্ন কাহিনীতে দেখা যেতো সম্মুখ হতে বাহিনীকে নির্দেশনা দিতে এবং নিজে মুখোমুখি লড়াইয়ে নেমে শত্রুদের কচুকাটা করতে। তার পছন্দের অস্ত্র ছিলো আগুনের তীর।

এই দেবীর মাথার মুকুট ছিলো সূর্য। তবে কখনো কখনো দেখা যেতো সেই সূর্য হতে সামনের দিকে বিষাক্ত গোখরো সাপ বেরিয়ে আছে। মিশরীয় ঐতিহ্যে খুব কম দেবদেবীর মাথার মুকুটেই এই ফণা তোলা গোখরো সাপটা আছে। যাদের মাথার মুকুটে এটা আছে, তাদের অত্যন্ত অভিজাত হিসেবে গণ্য করা হয়। মেনহেতও সেই স্বল্প সংখ্যক দেবীর একজন।

মিশরের উত্তরাংশে মেনহেতকে দেবতা খানুম-এর (মতান্তরেখেনমু’, ভেড়ার মাথাবিশিষ্ট দেবতা, উর্বরতার প্রতীক) রক্ষিতা হিসেবে উপাসনা করা হতো। এছাড়াও পরবর্তীতে ‘আনহুর’ নামক যুদ্ধ দেবতার সঙ্গী হিসেবেও কল্পনা করা হয়েছিলো তাকে।

মিশরের অধিকাংশ বিড়াল গোত্রীয় প্রাণীর চেহারাবিশিষ্ট দেবদেবীকে পাতালপুরীর কোনো না কোনো নরকের রক্ষক এবং শাসনকর্তা হিসেবে দেখা যায়। একইসাথে ফারাওদের রক্ষার দায়িত্বও বর্তায় এই ধরণের দেবদেবীর ঘাড়ে। মেনহেতও তার ব্যতিক্রম নন। তার মূর্তি পাওয়া গিয়েছিলো তুতেনখামুনের সমাধিতে।

দেবতা ইমহোটেপ

Imhotep (কখনো কখনো Immutef নামেও ডাকা হয়) হচ্ছেন সেই সব স্বল্প সংখ্যক মিশরীয় দেবদেবীর মাঝে একজন, যিনি বাস্তবেই পৃথিবীতে জীবনযাপন করে গেছেন। ফারাওদের ছাড়া আর যে গুটিকয় রক্তমাংসের মানুষকে মিশরীয়রা ঈশ্বরের মর্যাদা দিয়ে উপাসনা করতো, ‘ইমহোটেপ’ হচ্ছেন তাদের একজন। তাকে স্থাপত্যবিদ্যা এবং বিজ্ঞান চর্চার দেবতা হিসেবে উপাসনা করা হতো সমগ্র মিশরে। তার অনুসারীরা তাকে মিশরীয় পুরাণের আরেক ঈশ্বর Ptah-এর সন্তান বলে বিশ্বাস করতো। পুরাণে বর্ণিত আছে, এই Ptah-ই হচ্ছেন সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের নির্মাতা।

3

ইমহোটেপ’ ছিলেন মূলত একজন মিশরীয় প্রকৌশলী এবং স্থপতি। একইসাথে তিনি ছিলেন লেখক, ডাক্তার এবং জ্যোতির্বিদ। প্রাচীন মিশরে স্থাপত্যবিদ্যার জনক ধরা হয় তাকেই। ২৬৫০-২৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের সময়কালটাতে তিনি পৃথিবীতে বিচরণ করে গেছেন বলে ধারণা করা হয়। তিনি সম্ভবত সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত মেম্ফিসের নিকটে সাক্কারায় অবস্থিত পিরামিডটার নির্মাণের জন্যে। প্রকৌশলী ইমহোটেপের নকশায় সিঁড়ির ধাপের মতো করে তৈরি এই পিরামিডটাকেই ধরা হয় মানুষের হাতে তৈরি প্রথম কোনো স্থাপত্য, যা আগাগোড়া পুরোটাই পাথরের চাঁই দিয়ে বানানো হয়েছে।

ইমহোটেপের পিতাকে নিয়ে দ্বিমত না থাকলেও তার মাতাকে নিয়ে সংশয় আছে পুরাণের মাঝে। এক পুরাণে লেখা আছে, তিনি ছিলেন ‘খেরেদু-আঁখ (Kheredu-Ankh)’ নামক এক নারীর সন্তান, যিনি মানুষের মতোই মরণশীল। এই বর্ণনা অনুযায়ী, ইমহোটেপ একজন অর্ধঈশ্বর। আবার আরেক বর্ণনায় বলা হয়েছে, তার পিতার মতো মাতাও ছিলেন একজন ঈশ্বরী। তার মাতা নাকি আসলে ছিলেন ‘সেখমেত (Sekhmet)’। এই বর্ণনা অনুযায়ী ইমহোটেপকে আবার তাহলে একজন পুরাদস্তুরই ঈশ্বরই বলা চলে।

মিশরীয় পুরাণে তার অনেক অলৌকিক উপায়ে রোগ সারাইয়ের ক্ষমতার বর্ণনা দেয়া আছে। অলৌকিক সব ঔষধ পথ্যের বর্ণনা দিয়ে সেগুলোর জন্যেও কৃতিত্ব দেয়া হয় ইমহোটেপকে। তার এই বিশেষ রূপটা গ্রীসেও ছড়িয়ে পড়েছিলো। গ্রীসে তাকে তুলনা করা হতো Asclepius-এর সাথে, যিনি গ্রীক পুরাণে ঔষধ পথ্য এবং রোগ সারাইয়ের দেবতা।

ইমহোটেপের মৃত্যুর পর হতেই মূলত তাকে ঈশ্বরের মর্যাদা দিয়ে উপাসনা করা শুরু হয়। তার মৃত্যুর আরও প্রায় দুইশ’ বছর পরে তাকে ঈশ্বরের মর্যাদা দেয়া হয়। পুরো মিশর জুড়ে তাকে ফারাওদের মতোই একজন ঈশ্বর হিসেবে গণনা করে উপাসনা শুরু হয়ে যায়। পণ্ডিতেরা প্যাপিরাসের উপরে কোনো কিছু লিখতে শুরু করার আগে কয়েক ফোঁটা কালি ছিটিয়ে দিতেন ইমহোটেপের স্মরণে। তাদের বিশ্বাস ছিলো, বিজ্ঞান চর্চার দেবতা ইমহোটেপ তাহলে আশীর্বাদ করবেন তাদের এই জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় এবং আড়াল হতে সাহায্য করবেন শিক্ষা অর্জনে ও গবেষণায়।

প্রকৌশলী ইমহোটেপ নিজের সমাধি নিজেই নির্মাণ করে গেছেন। কিন্তু সেই সমাধিটা কোথায়, সেটা আজ পর্যন্ত কেউ খুঁজে পায়নি (সম্ভবত হলিউড অভিনেতা ‘ব্রেন্ডেন ফ্রেজার’ বাদে। ‘দ্যা মামি’ মুভিতে এবং তার পরবর্তী সিকুয়েলে টেকো মাথার যে ভিলেনকে সবাই দেখেছিলেন, সেইই আমাদের আজকের পোস্টের এই ইমহোটেপ)! তবে ধারণা করা হয়, ইমহোটেপ তার সমাধিস্থল গোপনে সাক্কারা অঞ্চলের কোথাও বানিয়েছিলেন, যেখানে পরে তার শেষকৃত্য অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে সম্পন্ন হয়।

লেখকঃ রিজওয়ানুর রহমান প্রিন্স ভাই

তথ্যসূত্রেঃ

ইমহোটেপঃ

মেনহেতঃ

মাফদেতঃ