জ্বীন পার্ট – ১

অনেক বড় লেখা তাই ধৈর্য নিয়ে পড়বেন, স্কিপ করে গেলে পরে আর বুঝতে পারবেন না। আর খুব দ্রুত লিখছি তাই বানান ভূল হতে পারে যার কারনে আমি লজ্জিত।
জ্বীন নামটা শুনলে অনেকেই মনে করেন ভূত টাইপের কিছু। আসলে ভূত বলে কিছুই নাই, সবই জ্বীন জাতি। আমরা শয়তান নামে যাকে চিনি সেও জ্বীণ জাতির অন্তর্ভুক্ত।
আজকাল অনেকেই জ্বিনের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে। তারা মনে করে দুনিয়াতে জ্বিন বলে কিছু নেই। আসলে এটা ভ্রান্ত ধারণা। জ্বিন আছে এবং জ্বিনের অস্তিত্বও বিজ্ঞান সম্মত। আমরা এখানে সেটা নিয়েই আলোচনা করব।
প্রথমে আমরা জানব জ্বিন সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে কি বলা হয়েছেঃ
সুরা আল জ্বিনে বলা হয়েছেঃ
বলুন, আমার প্রতি ওহী নাযিল করা হয়েছে যে, জ্বিনদের একটি দল কোরআন শ্রবণ করেছে, অতঃপর তারা বলেছেঃ আমরা বিস্ময়কর কোরআন শ্রবণ করেছি। (আয়াত-০১)
অথচ আমরা মনে করতাম মানুষ ও জ্বিন কখনও আল্লাহতা’আলা সম্পর্কে মিথ্যা বলতে পারে না। (আয়াত-০৫)
আর যখন আল্লাহতা’আলার বান্দা তাকে ডাকার জন্যে দন্ডায়মান হল, তখন অনেক জ্বিন তার কাছে ভিড় জমালো। (আয়াত-১৯)

জ্বিন জাতির ইতিহাসঃ

কুরআন অনুসারে জিন জাতি মানুষের ন্যয় আল্লাহ্‌ তা’য়ালার এক সৃষ্ট একটি জাতি। পৃথিবীতে মানব আগমনের পূর্ব থেকেই তাদের অস্তিত্ব ছিল; এখনও তাদের অস্তিত্ব রয়েছে। মানুষের চর্মচক্ষে তারা দৃষ্টিগ্রাহ্য নয়। তবে জিনরা মানুষকে দেখতে পায়। তারা বিশেষ কিছু শক্তির অধিকারী। তাদের মধ্যেও মুসলিম এবং কাফির ভেদ রয়েছে। তারা মসজিদে নামাজ পড়তে আসে। তাদেরও সমাজ রয়েছে। তারা আয়ূ মানুষের চেয়ে অনেক বেশী। উদাহরনস্বরূপ, তারা ৩০০ বছর বয়সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়। ঈমাম ইবনে তাইমিয়ার মতে জিন জাতি তাদের অবয়ব পরিবর্তন করতে পারে।
ইসলামের মতে জিন জাতি এক বিশেষ সৃষ্টি। কুরআনের ৭২তম সুরা আল জ্বিন এ শুধু জিনদের নিয়ে কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সূরা আন নাস এর শেষ অংশে জিন জাতির উল্লেখ আছে। কুরআনে আরো বলা আছে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে জিন এবং মানবজাতির নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। হযরত সুলায়মান (আঃ) এর সেনাদলে জিনদের অংশগ্রহণ ছিল বলে কুরআনে উল্লেখ আছে। ইসলামে আরো বলা আছে “ইবলিশ” তথা শয়তান প্রকৃতপক্ষে জিন জাতির একজন ছিল। ইসলামের মতে, শয়তান হচ্ছে দুষ্ট জিনদের নেতা। ইবলিশ বা শয়তান ছিল প্রথম জিন যে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করেছিল।
কুরআনে উল্লেখ আছে যে, ইবলিশ এক সময় আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা ছিল । কিন্তু আল্লাহ যখন হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন, তখন হিংসার বশবর্তী হয়ে ইবলিশ আল্লাহর হুকুম অমান্য করে। এ কারণে ইবলিশ কে বেহেশত থেকে বিতাড়িত করা হয় এবং এরপর থেকে তার নামকরণ হয় শয়তান। ইসলাম পূর্ব আরব উপকথা গুলোতে জ্বিন সদৃশ সত্ত্বার উল্লেখ আছে। প্রাচীন সেমাইট জাতির জনগণ জিন নামক সত্ত্বায় বিশ্বাস করতো। তাদের মতানুসারে নানাপ্রকারের জিন পরিলক্ষিত হয়। যেমন, ঘুল (দুষ্ট প্রকৃতির জিন যারা মূলত কবরস্থানের সাথে সম্পর্কিত এবং এরা যেকোন আকৃতি ধারণ করতে পারে), সিলা (যারা আকৃতি পরিবর্তন করতে পারতো) এবং ইফরিত (এরা খারাপ আত্মা)। এছাড়া মারিদ নামক এক প্রকার জিন আছে যারা জিন দের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। প্রাচীন আরবদের মতে জিন রা আগুনের তৈরি।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ব্যাখাঃ

আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞান জ্বিন জাতির অস্তিত্ব অস্বিকার করে না। অস্বিকার করার মত কোন যুক্তি বা মতবাদও আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং এ্যন্টি ম্যাটার সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান যত বৃদ্ধি পাচ্ছে জ্বিনের অস্তিত্বের পক্ষে যুক্তি ততই প্রগাড় হচ্ছে।
আসুন জানি এ্যন্টি ম্যাটার কিঃ
পৃথিবীতে যেমন বস্তু রয়েছে। তেমনভাবে অবস্তুও থাকতে পারে। আসুন দেখি এন্টিম্যাটার সম্পর্কে উইকিতে কি বলা হয়েছেঃ
পার্টিক্যাল ফিজিক্সে এ্যন্টি ম্যাটারেরর ধারণা প্রতিপদার্থের ধারণা রুপ নিয়েছে। ধারণা করা হয়েছে যেভাবে কণা দ্বারা পদার্থ গঠিত হয় ঠিক তেমনিভাবে প্রতিকণা দ্বারা প্রতিপদার্থ গঠিত হয়। উদাহরণস্বরুপ, একটি প্রতিইলেকট্রন (পজিট্রন) এবং একটি প্রতিপ্রোটন মিলিত হয়ে গঠন করে একটি প্রতিহাইড্রোজেন পরমাণু, যেমন করে একটি ইলকট্রন ও প্রোটন মিলে তৈরি করে একটি হাইড্রোজেন পরমাণু। উপরন্তু কণা এবং প্রতিকণা মিলিত হলে যেভাবে পূর্ণবিলয়ের মাধ্যমে সকল শক্তি বিমুক্ত হয়, তেমনি পদার্থ এবং প্রতিপদার্থের মিলনে পূর্ণবিলয়ের সৃষ্টি হয় বলে ধারণা করা হয়েছে। এ ধরণের পূর্ণবিলয়ের ফলে প্রকৃতপক্ষে উচ্চ শক্তির ফোটন (গামা রশ্মি) এবং বহু কণা-প্রতিকণা জোড়ার সৃষ্টি হয়। এই পূর্ণবিলয়ে বিমুক্ত কণাগুলোর মধ্যে বিপুল পরিমাণ শক্তি থাকে। এই শক্তির মান পূর্ণবিলয়ের ফলে সৃষ্ট বস্তুসমূহের নিশ্চল ভর এবং মূল পদার্থ-প্রতিপদার্থ জোড়ার অন্তর্ভুক্ত বস্তুসমূহের নিশ্চল ভরের পার্থক্যের সমান।
অর্থাৎ আমাদের মহাবিশ্বে যত পার্টিক্যাল আছে ঠিক তত পরিমান এ্যন্টি পার্টিক্যাল আছে। শক্তির নিত্যতা সূত্রানুযায়ী।
এ্যান্টিপার্টিকেল অদৃশ্য। এগুলোর মুভমেন্ট কোন যন্ত্র দ্বারা পর্যবেক্ষন করা যায় না। কিন্তু বিজ্ঞান এগুলোর অস্তিত্বকে অস্বিকার করতে পারছে না।
পৃথিবীতে ৬৫০ কোটি মানুষ আছে। এ্যান্টি পার্টিকেল থিওরি অনুযায়ী প্রতিটি মানুষের জন্যে একটি করে প্রতিমানুষ থাকলে সেগুলোর সংখ্যা হবে ৬৫০ কোটি। এগুলো মানুষের মতই কিন্তু অদৃশ্য।
এগুলোকেই জ্বিন বলা হয় যা বিজ্ঞান সম্মত।
সোর্সঃ উকিপিডিয়া
খুব কম মানুষই তার চোখে 60 Hz পর্যন্ত দেখতে পারে যা সেকেন্ডে প্রায় ১৫০ টি ফ্রেমের সমান। এর বেশী গতির বস্তু মানুষ দেখতে অপারগ। অপর দিকে মানুষ 390 to 700 nm সীমার মধ্যে আলো দেখতে পায়। তাই আমরা অনায়াসেই বলে দিতে পারি যে জ্বীনের অস্তিত্ব আছে। যারা ঐ ফ্রিকুয়েন্সিতে বা তার বেশী ফ্রিকুয়েন্সিতে চলাফেরা করে।
আমরা যারা প্যারানরমাল এক্টিভিটি নিয়ে পড়ালেখা করেছি তারা কিছু ইকুইপমেন্ট সম্পর্কে জানি। যেমন:
১) EDI RESEARCH DEVICE:

a) Ambient Temperature Sensor ( ±½ degree within 3 seconds ) এটা LED ফ্রিকুয়েন্সি send করে যা ডিগ্রিতে টেম্পারেচার মেজার করে।

b) Electromagnetic Field Sensor ( below 30 Hz to above 30 kHz ) এটা আগেরটার মতই তবে এটা ইলেক্ট্রোমেগনেট মানে ইলেক্ট্রিসিটি মেজার করে।
c) Geophone ( from .024 to .122 G’s ) এটা কোনো কিছুর নড়াচড়া মেজার করে।
 
২) ParaScope: ( Measures 2.5″ wide by 3.5″ ) এটা উচ্চতা জাচাই করে। খুবি কাজের 🙂
৩) REM-POD: ( Mini telescopic antenna provides 360 degree coverage ) এটা দিয়ে পুরো যায়গাটাকে মেজার করে। যদি কোনো কিছুর এক্সিস্টেন্স থাকে এটা সাইরেন দেয়।
৪) GHOST HUNTING PARTY: এটা 4 EMF পর্যন্ত ম্যাগ্নেটিক ফিল্ড জাচাই করে।
এছাড়াও অনেক গেজেট আছে যেমনঃ সাউন্ড ক্যাপচারিং, লেজার লাইট এলার্ট, ফ্রিকুয়েন্সি হান্টিং মিটার আরো অনেক। এসবই জীনদের অস্তিত্ব প্রমান করে।
এ জগতে বিজ্ঞান দিয়ে কোরআনকে ‘দৌড়ানি’ দেওয়া শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় এক যুগ আগে। শুরুর দিকে কোরআনের পৃথিবীকে ‘থালার লাহান চ্যাপ্টা’ ও ‘স্থির’ বানিয়ে দিয়ে বিজ্ঞান দিয়ে ‘দৌড়ানি’ দেওয়া হতো। একটা পর্যায়ে যেয়ে নিজেরাই উষ্ঠা খেয়ে সত্য স্বীকার না করেই চুপ মেরে যায়। জুলকার্নাইনের ঘটনা দিয়েও কোরআনকে কিছুদিন ‘দৌড়ানি’ দেওয়া হয়। এভাবে মিশন্যারী উৎস থেকে চমকে দেওয়ার মতো দু-একটি করে বিষয় নিয়ে এসে বিজ্ঞান দিয়ে কোরআনকে কিছুদিন ‘দৌড়ের’ উপর রেখে এক সময় নিজেরাই উষ্ঠা খেয়ে চুপ মেরে গেছে। তারা হয়তো বুঝে গেছে যে, এখন এসে এই ধরণের (অপ)প্রচার করলে উল্টোদিকে গণদৌড়ানি খেতে হবে!
এজন্য বিজ্ঞান দিয়ে কোরআনকে ‘দৌড়ানি’ দেওয়ার সর্বশেষ (?) অস্ত্র হিসেবে সম্ভবত জ্বীনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। শুধু এটুকু বললে ব্যাপারটা অসমাপ্ত থেকে যাবে। এক বাংলা মহাবিজ্ঞানীর দাবি অনুযায়ী কোনো এক পাকিস্তানী উন্মাদ বিজ্ঞানী (তার ভাষায়; তার কাছে অবশ্য মুসলিম মানেই উন্মাদ, ভণ্ড, ধোঁকাবাজ, মিথ্যাবাদী, ইত্যাদি) নাকি জ্বীন থেকে এনার্জি বা শক্তি কব্জা করার জন্য গবেষণার প্রস্তাব দিয়েছেন। আর যায় কই! মুসলিমদেরকে ধরাশায়ী করার জন্য আর কী লাগে! পাকিস্তানী বিজ্ঞানী যেহেতু জ্বীন থেকে এনার্জি কব্জা করার জন্য গবেষণার কথা বলেছেন সেহেতু জ্বীনের অনস্তিত্ব বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ হয়ে গেছে এবং যার ফলে মুসলিমরা এখন বিজ্ঞানের ভয়ে গর্তে লুকাবে!
জ্বীন থেকে এনার্জি কব্জা করার সূত্র দেওয়া হচ্ছে এই লেখার: Why Does the Muslim World Lag in Science? লেখকের নাম অ্যারন সেগাল (Aaron Segal)। এই লেখাতে অ্যারন সেগাল কোরআন ও বাইবেল সম্পর্কে লিখেছেঃ-
“One verse (6:1) reads, “He created the heavens and the earth in six days, and then mounted his throne.” Were this verse, borrowed from Genesis I, interpreted literally, it would devastate astrophysics, cosmology, geology, and other disciplines. But Muslims have neither interpreted the verse (as have most Christians and Jews) to understand that a “day” means some length of time to God other than twenty-four earth hours, nor have they given it a metaphorical meaning.”
অ্যারন সেগাল এখানে দুটি মিথ্যাচার করেছে। প্রথমত, তার দাবি অনুযায়ী বাইবেলের জেনেসিস থেকে কোরআনের উপরোক্ত আয়াত ধার করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, তার দাবি অনুযায়ী মুসলিমরা কোরআনে ‘দিন’ বলতে আক্ষরিক অর্থে পৃথিবীর সময়ে ‘চব্বিশ ঘণ্টা’ বোঝে! হা-হা-হা! বোকারাম পুরাই উল্টো দাবি করেছে!
একই লেখাতে অ্যারন সেগাল পাকিস্তানে জ্বীন নিয়ে গবেষণা সম্পর্কে বলেছেঃ-
“The regime organized international conferences and provided funding for research on such topics as the temperature of hell and the chemical nature of jinns (demons).১৪”
প্রথমত, অ্যারন সেগালের লেখা অনুযায়ী পাকিস্তানে জিয়াউল হক সরকারের সময়ে জাহান্নামের তাপমাত্রা ও জ্বীনের রাসায়নিক প্রকৃতি নিয়ে গবেষণার জন্য ফাণ্ড দেওয়া হয়। সত্য-মিথ্যা আমার জানা নেই। এটিকেই বাংলা মহাবিজ্ঞানী সাহেব – বিজ্ঞান-ভিত্তিক বিষয়ে যার কোনো পেপার আছে কি-না সন্দেহ – জ্বীন ধরে তা থেকে এনার্জি কব্জা করার কথা বলে এবং পাকিস্তানী বিজ্ঞানীকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে মুসলিমদের নিয়ে অনেকদিন ধরে বেশ হাসিঠাট্টা করে আসছে। উল্লেখ্য যে, আমাদের কারো লেখায় জ্বীন বিষয়ে পাকিস্তানী কোনো বিজ্ঞানীর রেফারেন্স টানা হয়নি।
দ্বিতীয়ত, অ্যারন সেগালের লেখাতে উল্লেখিত ১৪ নং সূত্র ধরে যেয়ে দেখা যাচ্ছে সেটি আরেক পাকিস্তানী বিজ্ঞানী পারভেজ হুডবয় এর লিখা একটি বই (Islam and Science: Religious Orthodoxy and the Battle for Rationality)। পারভেজ হুডবয় জন্মসূত্রে ইসমাইলী হওয়ার কারণে মূলস্রোতের মুসলিমদের পেছনে লেগে থাকেন। ইসলামেরও সমালোচনা করেন। উল্লেখ্য যে, পারভেজ হুডবয় ইসলাম বিদ্বেষীমনাদের কারো কারো কাছে বেশ প্রিয় পাত্র। অন্যদিকে প্রফেসর আব্দুস সালাম একজন আহমেদিয়া মুসলিম হলেও উনি কিন্তু মূলস্রোতের মুসলিমদের পেছনে লেগে থাকেননি কিংবা পরোক্ষভাবে ইসলামের সমালোচনাও করেননি। প্রফেসর সালাম বরং ইসলামে বিশ্বাসীই ছিলেন। এজন্য প্রফেসর সালামের উপর ইসলাম-বিদ্বেষীমনারা চরম ক্ষিপ্ত।
যাহোক, যদিও ইসলাম ও মুসলিম বিরোধীদের কাছে পাকিস্তান একটি মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে তথাপি জ্বীন নিয়ে পাকিস্তানে কী হচ্ছে আর না হচ্ছে সেটিকে এক পাশে রেখে ব্যাপারটাকে যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যাক।
ইসলাম অনুযায়ী জ্বীনেরা আগুনের (Flame of fire) তৈরি, তবে অদৃশ্য। প্রশ্ন হচ্ছে আগুন থেকে এনার্জি বা শক্তি উৎপন্ন করা সম্ভব কি-না? এই প্রশ্নের জবাব জানার জন্য বিজ্ঞানের জ্ঞান থাকার কোনোই দরকার নাই। কেননা বিষয়টা সর্বজনবিদিত। আগুন থেকে যদি শক্তি উৎপন্ন করা সম্ভব হয় তাহলে আগুনের তৈরি জ্বীন থেকে শক্তি উৎপন্ন করার প্রস্তাব হাস্যকর হয় কী করে? নাকি মনারা ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে কথা বলার সময় নাকে লাফিং গ্যাসের মাস্ক লাগিয়ে নেয়? তবে এখানে শর্ত হচ্ছে জ্বীনের অস্তিত্ব খুঁজে পেতে হবে। জ্বীনের অস্তিত্ব খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত এটি একটি তত্ত্ব বা প্রস্তাব হিসেবেই থেকে যাবে।
যেখানে এলিয়েনের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে যদিও ফলাফল শূন্য, মানুষ হত্যার জন্য মারণাস্ত্র তৈরিতে প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে, এ’রকম কত কিছু নিয়ে যুগের পর যুগ ধরে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে গবেষণা চলছে – সেখানে জ্বীন নিয়ে কেউ গবেষণার প্রস্তাব দিলেই উন্মাদ হয়ে যায়। কেন? কারণ, এটি ইসলামের সাথে সম্পর্কযুক্ত। প্রকৃত উন্মাদ ও অন্ধ বিদ্বেষী যে কারা, তা সচেতন ও যুক্তিবাদী পাঠক মাত্রই বুঝতে পারার কথা।
সোর্সঃ সামহোয়ার ব্লগ
যারা বিজ্ঞান দিয়ে কোরআনকে ‘দৌড়ানি’ দিতে যেয়ে নিজেরাই বারংবার উষ্ঠা খাচ্ছে তাদের কাছে প্রশ্ন: বিজ্ঞানের কোথায় বলা হয়েছে যে, জ্বীন বলে কিছু নাই বা থাকতে পারে না? উষ্ঠা খাওয়া নির্বোধগুলার এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মতো সৎ-সাহস আছে কি?
আজকাল যে ন্যাশনাল জিওগ্রাফী, ডিসকাভারি চ্যানেল (আজকাল মুক্তমনারা এগুলাকে বিজ্ঞানের অথেনটিক সোর্স হিসাবে মনে করে) গুলোতে লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ করে ভূতপ্রেতের বিষয় নিয়ে ডকুমেন্টারি বানানো হচ্ছে এবং হলিউড, বলিউড, ছবিগুলোর কাহিনী বিষয় বস্তু যে ভূতপ্রেত, সেগুলোর কথা কি বাংলার মহা বিজ্ঞানীর মাথার উপর দিয়ে চলে গেছে?
এই মহাবিশ্বের স্রষ্টায় অবিশ্বাস করে [স্রষ্টায় অবিশ্বাসের জন্য সবচেয়ে বড় কল্পকাহিনীতে বিশ্বাসী হতে হবে], বিবর্তনবাদের মতো অবাস্তব ও হাস্যকর রকমের কল্পকাহিনীতে বিশ্বাস করে, জ্বীনে বিশ্বাস নিয়ে হাসিঠাট্টা করতে হলে জ্বীন-পজেসড হতে হবে কিংবা ইসলাম-বিদ্বেষী ভাইরাসে আক্রান্ত হতে হবে।
মনাদের কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে ফেরেশতা ও জ্বীনে বিশ্বাস নিয়ে হাসিঠাট্টা করে আসছে। তাদের মধ্যে কতজন জেনেবুঝে হাসিঠাট্টা করে আর কতজন বহুব্রীহি নাটকের মামার মতো অন্যের হাসি দেখে হাসে, তা অবশ্য বলা মুশকিল।
যাহোক, বিজ্ঞানের উপর আস্থা থাকলে ফেরেশতা ও জ্বীনে বিশ্বাস নিয়ে হাসিঠাট্টা করার কথা না। অধিকন্তু, যাদের বিশ্বাস অনুযায়ী একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে পুরো জীবজগত বিবর্তিত হয়েছে, তাদের কি ফেরেশতা ও জ্বীনে বিশ্বাস নিয়ে হাসিঠাট্টা করার ন্যূনতম কোনো অধিকার আছে? কেউ যদি বিবর্তনবাদের কল্পকাহিনীতে বিশ্বাস করে ফেরেশতা ও জ্বীনে বিশ্বাস নিয়ে হাসিঠাট্টা করে তাহলে সেটা হবে কালের শ্রেষ্ঠ বিনোদনমূলক কৌতুক। ব্যাপারটা “চালুনি হয়ে সুঁচের পেছনে ছিদ্র নিয়ে হাসিঠাট্টা করা” কিংবা “গান্ধীর বিরুদ্ধে হিটলারের গণহত্যার অভিযোগ” এর মতোই হাস্যকর শুনায়।
ইসলাম অনুযায়ী ফেরেশতা হচ্ছে নূর তথা আলোর তৈরী এবং জ্বীন হচ্ছে আগুনের শিখার তৈরী ক্রীয়েচার। তবে উভয়েই অদৃশ্য – খালি চোখে দেখা যায় না। তাহলে আলো ও আগুনের তৈরী অদৃশ্য ক্রীয়েচারে বিশ্বাস নিয়ে নাস্তিকদের হাসিঠাট্টা করার কারণ কী? কারণ মূলত তিনটি:
১. ফেরেশতা ও জ্বীনকে দেখা যায় না! {কোনো কিছুকে দেখা না গেলেই নাস্তিকদের কাছে সেটি ‘কাল্পনিক’ ও ‘হাসিঠাট্টার বস্তু’ হয়ে যায়। নাস্তিকদের এই ধরণের বিজ্ঞান-বিরোধী ও শিশুসুলভ মনোভাবের জবাব অনেকেই অনেকবার দিয়েছেন – আচ্ছামতোই দিয়েছেন। নতুন করে আর বলার কিছু নাই। কোটি কোটি বছর আগের একটি কাল্পনিক ব্যাকটেরিয়া থেকে পুরো জীবজগতের বিবর্তনে বিশ্বাস করে যারা স্বচক্ষে না দেখে কোনো কিছুতে বিশ্বাস নিয়ে হাসিঠাট্টা করে তারা হয় বদ্ধ উন্মাদ না-হয় অতি ধূরন্ধর।}
২. ফেরেশতা ও জ্বীন ধর্মীয় বিশ্বাস! {প্রশ্ন হচ্ছে কোন্‌ পাদ্রী/পুরোহিত/মোল্লা বলেছে যে, ধর্মীয় বিশ্বাস মানেই সেটি এমনি এমনি মিথ্যা বা হাসিঠাট্টার বস্তু হয়ে যায়? বড় বড় বিজ্ঞানীরা এই ধরণের কোনো কথাবার্তা বলেছেন বলে মনে হয় না। সকল প্রকার কল্পকাহিনীর সমাহার বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করে এই ধরণের কথাবার্তা বলতে লজ্জা করা উচিত।}
৩. ফেরেশতা ও জ্বীনের অস্তিত্বের পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নাই! {কোনো কিছুর অস্তিত্বের পক্ষে আজ পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকা মানেই সেটি অবৈজ্ঞানিক বা হাসিঠাট্টার বস্তু হয়ে যায় নাকি? বিজ্ঞানের কোথায় এই কথা লিখা আছে? অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত মানুষের কাছে ব্যাকটেরিয়া-জাতীয় কোনো অণুজীবের অস্তিত্ব ছিল না। তার মানে কি ব্যাকটেরিয়া-জাতীয় অণুজীবের অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি? অতিবেগুনি রশ্মিকে খালি চোখে দেখা যায় না বলে কি তার অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি? অনুরূপভাবে, টেলিস্কোপ আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত খালি চোখে এই মহাবিশ্বটা ছিল খুবই ক্ষুদ্র ও সীমিত – পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে শুরু করে উপরিভাগে খালি চোখে দৃশ্যমান চন্দ্র, সূর্য, ও কিছু গ্রহ-নক্ষত্রের সমন্বয়ে সামিয়ানার মতো কিছু একটা। তার মানে এই মহাবিশ্বটা আগের মতোই ক্ষুদ্র ও সীমিত রয়ে গেছে নাকি? এ’রকম উদাহরণ আরো অনেক দেওয়া যায়।}
অতএব, প্রশ্ন হচ্ছে বিজ্ঞানের উপর নাস্তিকদের আদৌ কোনো আস্থা আছে কি? নাকি তারা ধর্মীয় বিশ্বাসকে হেয় করার জন্য বিজ্ঞানের ঘাড়ে বন্দুক রেখে তড়িঘড়ি-পরিমরি করে বিজ্ঞান-বিরোধী সব উপসংহার টানছে?
সোর্সঃ গুগোল
জীনকে বিজ্ঞানীরা প্রমান করেছে তবে তা এলিয়ান রূপে। আমি এন্সিয়েন্ট এলিয়েন আর আনসিল্ড এলিয়েন ফাইল এ ২টা রিসার্চিং নিয়ে পড়েছি।
আপনারা এলিয়েন এর সাথে জীন জাতির সম্পর্ক খুজে দেখেন সব কিছু ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
আরো ব্যাখ্যা আছে ধীরে ধীরে সব দিবো, একটু অগোছালো তাই মনযোগ দিয়ে পইরেন। সব লেখা শেষে আমি পডিএফ আর নোট আকারে প্রকাশ করবো, আর বই ও বানাতে পাড়ি কারন এ সম্পর্কে বই নাই বললেই চলে।
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s